সমাজ জীবনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব
প্রথম অধ্যায়
ভূমিকাঃ
অস্থিতিশীলতা স্থিতিশীলতা পদবাচ্যের বিপরীত ধারণা। ব্যক্তিজীবনের মতো জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও অস্থিতিশীলতা অনুন্নয়ন ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। এ কারণে স্থিতিশীলতা, বিশেষত রাজনৈতিক স্থিতিকে, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান নিয়ামক বলে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও উন্নয়ন গবেষকদের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত ও সম্ভবপর অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মতানৈক্য, বিভাজন ও সার্বিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনাকে যেমনি করেছে ব্যাহত, তেমনি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকেও করছে অনিশ্চিত।
নিরাপত্তা বিষয়ক আধুনিক ধারণা কেবল দেহগত কিংবা ভূখ-গত অথবা সীমান্ত সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। ওয়াল্টার লিপম্যানের মতে, একটি জাতি ততক্ষণ নিরাপদ থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার মৌলিক মূল্যবোধগুলো বিসর্জন দেয়ার অবস্থায় উপনীত না হয়, যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয় এবং সঙ্কট সামলে নেয়ার মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন, সাংঘর্ষিক অবস্থা ও অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও বিপন্ন করে তুলছে। আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ বিষয়ের অনেকগুলোতে জাতীয় ঐকমত্য নেই। আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি ব্যাপক ও বিপুলভাবে আগ্রাসনের শিকার। আমাদের অর্থনীতি স্বনির্ভর নয়। কিন্তু কিছু মীমাংসিত বিষয় নতুনভাবে অমীমাংসিত করে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলেরও চেষ্টা চলছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ তথা আইনের শাসন ও সুশাসনের অভাব আমাদের সরকার ব্যবস্থাকে করছে বিপর্যস্ত। সঙ্কটকালে জাতীয় সুরক্ষা বিষয়েও আমরা দুশ্চিন্তামুক্ত নই। সমাধান নয়Íসমস্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের পারঙ্গমতা যেন বেশি স্পষ্ট হচ্ছে। অনুন্নত দেশে ও অনুদার গণতন্ত্রে যেহেতু জনগণ নয়, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গই প্রায় সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনÍসে কারণে ব্যর্থতার দায়ভারও প্রায় এককভাবে এদের ওপর বর্তায়। আমাদের রাজনীতিকদের একটা বড় অংশ ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে ব্যবহার করতে চাইলেও অন্যকে সে সুযোগ দিতে অনাগ্রহী। আর এ অগণতান্ত্রিক মানসিকতাই স্থিতিশীলতাহীনতাসহ আমাদের অনেক সঙ্কটের মৌল কারণ বলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
১.১ গবেষণাঃ
অস্থিতিশীলতা স্থিতিশীলতা পদবাচ্যের বিপরীত ধারণা। ব্যক্তিজীবনের মতো জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও অস্থিতিশীলতা অনুন্নয়ন ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। এ কারণে স্থিতিশীলতা, বিশেষত রাজনৈতিক স্থিতিকে, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান নিয়ামক বলে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও উন্নয়ন গবেষকদের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত ও সম্ভবপর অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মতানৈক্য, বিভাজন ও সার্বিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনাকে যেমনি করেছে ব্যাহত, তেমনি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকেও করছে অনিশ্চিত।
নিরাপত্তা বিষয়ক আধুনিক ধারণা কেবল দেহগত কিংবা ভূখ-গত অথবা সীমান্ত সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। ওয়াল্টার লিপম্যানের মতে, একটি জাতি ততক্ষণ নিরাপদ থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার মৌলিক মূল্যবোধগুলো বিসর্জন দেয়ার অবস্থায় উপনীত না হয়, যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয় এবং সঙ্কট সামলে নেয়ার মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন, সাংঘর্ষিক অবস্থা ও অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও বিপন্ন করে তুলছে। আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ বিষয়ের অনেকগুলোতে জাতীয় ঐকমত্য নেই। আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি ব্যাপক ও বিপুলভাবে আগ্রাসনের শিকার। আমাদের অর্থনীতি স্বনির্ভর নয়। কিন্তু কিছু মীমাংসিত বিষয় নতুনভাবে অমীমাংসিত করে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলেরও চেষ্টা চলছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ তথা আইনের শাসন ও সুশাসনের অভাব আমাদের সরকার ব্যবস্থাকে করছে বিপর্যস্ত। সঙ্কটকালে জাতীয় সুরক্ষা বিষয়েও আমরা দুশ্চিন্তামুক্ত নই। সমাধান নয়Íসমস্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের পারঙ্গমতা যেন বেশি স্পষ্ট হচ্ছে। অনুন্নত দেশে ও অনুদার গণতন্ত্রে যেহেতু জনগণ নয়, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গই প্রায় সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনÍসে কারণে ব্যর্থতার দায়ভারও প্রায় এককভাবে এদের ওপর বর্তায়। আমাদের রাজনীতিকদের একটা বড় অংশ ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে ব্যবহার করতে চাইলেও অন্যকে সে সুযোগ দিতে অনাগ্রহী। আর এ অগণতান্ত্রিক মানসিকতাই স্থিতিশীলতাহীনতাসহ আমাদের অনেক সঙ্কটের মৌল কারণ বলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
১.১ গবেষণাঃ
মানবিক
জ্ঞান উৎকর্ষের মূলে গবেষণার ভূমিকা সর্বাধিক। অজানাকে জানার জন্য, রহস্য
উম্মোচনের জন্য, কোন বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভের জন্য সর্বপরী প্রকৃতির
উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। গুহাবাসী মানুষ
আজ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে অবস্থান করছে। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে
মুহুর্তের মধ্যে অন্য প্রান্তের খোজ খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসবের মূলে রয়েছে
বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
১.২ গবেষণার বিষয় ও সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়ের ব্যখ্যাঃ
১.২ গবেষণার বিষয় ও সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়ের ব্যখ্যাঃ
যে
কোন গবেষণার ক্ষেত্রে প্রত্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে প্রত্যয়
হল কতকগুলো পর্যবেক্ষন সম্পন্ন ঘটনা, বস্ত্র বা অভিজ্ঞতার বিমূর্থ পথিকৃত।
আমার গবেষণার বিষয় হচ্ছে “সমাজ জীবনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব” একটি
সমাজতাত্বিক সমীক্ষা” এই গবেষণার বিষয়টি পর্যালোচনা করলে যে প্রত্যয়টি
লক্ষ করা যায় তা হলোঃ
১. রাজনীতি
রাজনীতি
১. রাজনীতি
রাজনীতি
পাঠকদের বোঝার জন্য টার্ম পেপারটির কিছু অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ টার্ম পেপারটির জন্য যোগাযোগ করুন।
পাভেল-০১৭৫৮-৩৩৬৭৫৫
১.৩ গবেষণার উদ্দেশ্যঃ
আমার গবেষণার বিষয় “সমাজ জীবনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব” আমার গবেষণার কাজটির পেছনেও একাধিক উদ্দেশ্য নিহীত রয়েছে যার উপর ভিত্তি করে আমার গবেষণাটিকে আমি এগিয়ে নিয়েছে। মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের প্রেক্ষিতে এই বিষয়ের উপর গবেষণা পরিচালনার জন্য নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যাবলী নির্ধারণ করা হলঃ
১. বর্তমান গণতান্ত্রিক সমাজ রাজনীতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করে সে সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করা।
২. গণতান্ত্রিক সমাজ কিভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শিকার হচ্ছে যে সম্পর্কে জানা
৩. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ধরণ সম্পর্কে অবহিত হওয়া
৪. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিভাবে সমাজকে প্রভাবিত করছে উক্ত বিষয়ের তথ্য জানা
৫. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সমাজ জিবনে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়
৬. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কিভাবে সমাজ থেকে নির্সৃন করা যায় সে সম্পর্কে জানা
৭. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার স্বরূপ সম্পর্কে অবহিত হওয়া
১.৪ গবেষণার ক্ষেত্র ও এলাকা পরিচিতিঃ
পাঠকদের বোঝার জন্য টার্ম পেপারটির কিছু অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ টার্ম পেপারটির জন্য যোগাযোগ করুন।
পাভেল-০১৭৫৮-৩৩৬৭৫৫
১.৫ গবেষণা ও পুস্তক পর্যালোচনাঃ
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ভিত্তিক গবেষণা কাজের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে সাহিত্য পর্যালোচনা। সদা পরিবর্তনশীল ও বির্বতনশীল সামজিক উপাদানকে উপজিব্য করে পরিচালিত সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে সাহিত্য সমীক্ষাকে একটি দিক দর্শন ও নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাধারণভাবে বলা যায়, সাহিত্য পর্যালোচনা হচ্ছে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে গবেষণার যৌক্তিক অধ্যয়ন।
যে কোন গবেষণা কার্য পরিচালনার পূর্বে এই বিষয়ে কোন ধরনের গবেষণা কিংবা কোন ধরনের গবেষণা কাজ বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক সে বিষয়ে অধ্যয়ন করাই হচ্ছে সাহিত্য পর্যালোচনা।
পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাহিত্য বলতে যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক উপকরনকে সমাজ গবেষক অর্ন্তভূক্তি করে থাকেন তা নি¤œরুপ ঃ
১. প্রকাশিত সাধারণ পাঠ্যপুস্তক।
২. জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক জার্নাল, সাময়িক পত্র-পত্রিকা
৩. গবেষণা প্রতিবেদন
৪. বিশেষজ্ঞগনের অভিমত ইত্যাদি
দ্বিতীয় অধ্যায়
২.১ গবেষণার গুরুত্বঃ
সামাজিক গবেষণা সমাজ সম্পর্কে আমাদের নতুন জ্ঞান লাভে সাহায্য করে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামাজিক গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক গবেষণার ফলে যুগ যুগ ধরে সকল তত্বের ত্রুটিগুলো খুব সহজে ধরা পড়েছে। সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব সমূহ নি¤œরূপ ঃ
১. অজানাকে জানার জন্য
২. রহস্য উম্মোচনের জন্য
৩. কোন বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারনা লাভের জন্য
৪. জ্ঞান অর্জনের জন্য
৫. বিজ্ঞান সমূহ তথ্য অনুসন্ধানের জন্য
২.২ গবেষণার অনুসৃত পদ্ধতিঃ
সামাজবিজ্ঞানে গবেষণার অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে পদ্ধতি। পদ্ধতি ছাড়া কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা সফল ও পুর্ণাঙ্গ রূপ পরিগ্রহ করতে পারে না। বিজ্ঞানমনস্ক অনুসন্ধানে গবেষণা পদ্ধতির বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক বিজ্ঞান : যেমন-পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য যেরূপ সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসৃত হয় তেমনি সমাজবিজ্ঞান গবেষণায়ও পদ্ধতি অনুসরন করা অনিবার্য।
সামাজিক গবেষণা সমাজ সম্পর্কে আমাদের নতুন জ্ঞান লাভে সাহায্য করে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামাজিক গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক গবেষণার ফলে যুগ যুগ ধরে সকল তত্বের ত্রুটিগুলো খুব সহজে ধরা পড়েছে। সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব সমূহ নি¤œরূপ ঃ
১. অজানাকে জানার জন্য
২. রহস্য উম্মোচনের জন্য
৩. কোন বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারনা লাভের জন্য
৪. জ্ঞান অর্জনের জন্য
৫. বিজ্ঞান সমূহ তথ্য অনুসন্ধানের জন্য
২.২ গবেষণার অনুসৃত পদ্ধতিঃ
সামাজবিজ্ঞানে গবেষণার অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে পদ্ধতি। পদ্ধতি ছাড়া কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা সফল ও পুর্ণাঙ্গ রূপ পরিগ্রহ করতে পারে না। বিজ্ঞানমনস্ক অনুসন্ধানে গবেষণা পদ্ধতির বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক বিজ্ঞান : যেমন-পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য যেরূপ সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসৃত হয় তেমনি সমাজবিজ্ঞান গবেষণায়ও পদ্ধতি অনুসরন করা অনিবার্য।
সাধারনভাবে বলা যায়, কোন কাজ সুচারুরুপে সম্পন্ন করতে যে পন্থায় সাহায্য নিতে হয় তাকে পদ্ধতি বলে।
গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে
Kothart তাঁর ÒResearch MethodologyÓ
গ্রন্থে বলেছেন “ গবেষণা পদ্ধতি বলতে বুঝায় এমন সব পদ্ধতি বা কৌশল যেগুলো
গবেষণা পরিচালনা করতে ব্যবহৃত হয়। গবেষক গবেষণা সম্পন্ন করতে যেসব পদ্ধতি ও
কৌশল ব্যবহার করেন তাই গবেষণা পদ্ধতি।
সুতরাং বলা যায় কোন কাজ পূর্নাঙ্গতা ও ব্যাপকতার সাথে সম্পন্ন করতে যে পন্থার সাহায্য নিতে হয় তা হল পদ্ধতি।
সুতরাং বলা যায় কোন কাজ পূর্নাঙ্গতা ও ব্যাপকতার সাথে সম্পন্ন করতে যে পন্থার সাহায্য নিতে হয় তা হল পদ্ধতি।
পদ্ধতি নির্বাচনঃ
আমার গবেষণার বিষয়বস্তু হল, “সমাজ জীবনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব”। একটি সমাজতাত্বিক সমীক্ষা। এই গবেষণা করতে গিয়ে আমি জরিপ পদ্ধতি অনুসরন করেছি। কেননা যে কোন গবেষণা সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য এই পদ্ধতি নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
জরিপ পদ্ধতিঃ
আধুনিক শিল্প ও শহর ভিত্তিক সমাজ গবেষণার এক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত তথ্যানুসন্ধান পদ্ধতি হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। একটি বৃহৎ সমগ্রককে সরাসরি প্রত্যক্ষ না করে এর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে জরিপ গবেষণা পদ্ধতি সমাজ গবেষকদের নিকট সহজতম এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসাবে সমাদৃত। সাধারণভাবে বলা যায়, জরিপ পদ্ধতি হচ্ছে কোন বিষয় সম্পর্কে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা।
সুতরাং বলা যায়, জরিপ পদ্ধতি হচ্ছে নির্দিষ্ট কোন এলাকার জনগনের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের কৌশল।
জরিপ পদ্ধতির সুবিধাঃ
গবেষণা পদ্ধতির মধ্যে জরিপ পদ্ধতির গুরুত্ব অনেক বেশী। এর মধ্যেমে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণা পদ্ধতি হিসেবে জরিপ পদ্ধতির সুবিধাগুলো হলোঃ
আমার গবেষণার বিষয়বস্তু হল, “সমাজ জীবনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব”। একটি সমাজতাত্বিক সমীক্ষা। এই গবেষণা করতে গিয়ে আমি জরিপ পদ্ধতি অনুসরন করেছি। কেননা যে কোন গবেষণা সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য এই পদ্ধতি নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
জরিপ পদ্ধতিঃ
আধুনিক শিল্প ও শহর ভিত্তিক সমাজ গবেষণার এক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত তথ্যানুসন্ধান পদ্ধতি হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। একটি বৃহৎ সমগ্রককে সরাসরি প্রত্যক্ষ না করে এর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে জরিপ গবেষণা পদ্ধতি সমাজ গবেষকদের নিকট সহজতম এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসাবে সমাদৃত। সাধারণভাবে বলা যায়, জরিপ পদ্ধতি হচ্ছে কোন বিষয় সম্পর্কে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা।
সুতরাং বলা যায়, জরিপ পদ্ধতি হচ্ছে নির্দিষ্ট কোন এলাকার জনগনের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের কৌশল।
জরিপ পদ্ধতির সুবিধাঃ
গবেষণা পদ্ধতির মধ্যে জরিপ পদ্ধতির গুরুত্ব অনেক বেশী। এর মধ্যেমে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণা পদ্ধতি হিসেবে জরিপ পদ্ধতির সুবিধাগুলো হলোঃ
১. সমস্যা নিরুপনে সহায়ক পদ্ধতি।
২. কম খরচে জরিপ গবেষণা সম্পন্ন হয়।
৩. খুব সহজে সাধারনীকরন সম্ভব।
৪. বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ।
৫. আর্থ-সামাজিক বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা দান করে।
৬. পরিকল্পনা প্রনয়ণে সহায়ক।
৭. দূর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক।
৮. অর্থনৈতিক বিষয়ে ধারনা দেয়।
জরিপ পদ্ধতির অসুবিধা সমূহঃ
আলোর বিপরীতে অন্ধকার এটি চিরন্তন সত্য। তাই জরিপ পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বহুল ব্যবহৃত এবং সুবিধামন্ডিত হওয়া সত্বেও এ পদ্ধতির কিছু অসুবিধা রয়েছে। নিচে এগুলো উল্লেখ করা হল ঃ
১. বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
২. উত্তর দাতার আবেগ অনুপস্থিত।
৩. বস্তুনিষ্ট জরিপ সম্ভব নয়।
৪. শহর ও গ্রামের জটিলতা।
২.৩ তথ্য সংগ্রহের কৌশলঃ
গবেষকের মনোগ্রাফের তথ্য সংগ্রহের কৌশল এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সামাজিক গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য যে কৌশলগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কৌশল হলো তিনটি । যথা ঃ
১. প্রশ্নমালা কৌশল
২. সাক্ষাৎকার কৌশল
৩. নমুনায়ন
২. কম খরচে জরিপ গবেষণা সম্পন্ন হয়।
৩. খুব সহজে সাধারনীকরন সম্ভব।
৪. বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ।
৫. আর্থ-সামাজিক বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা দান করে।
৬. পরিকল্পনা প্রনয়ণে সহায়ক।
৭. দূর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক।
৮. অর্থনৈতিক বিষয়ে ধারনা দেয়।
জরিপ পদ্ধতির অসুবিধা সমূহঃ
আলোর বিপরীতে অন্ধকার এটি চিরন্তন সত্য। তাই জরিপ পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বহুল ব্যবহৃত এবং সুবিধামন্ডিত হওয়া সত্বেও এ পদ্ধতির কিছু অসুবিধা রয়েছে। নিচে এগুলো উল্লেখ করা হল ঃ
১. বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
২. উত্তর দাতার আবেগ অনুপস্থিত।
৩. বস্তুনিষ্ট জরিপ সম্ভব নয়।
৪. শহর ও গ্রামের জটিলতা।
২.৩ তথ্য সংগ্রহের কৌশলঃ
গবেষকের মনোগ্রাফের তথ্য সংগ্রহের কৌশল এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সামাজিক গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য যে কৌশলগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কৌশল হলো তিনটি । যথা ঃ
১. প্রশ্নমালা কৌশল
২. সাক্ষাৎকার কৌশল
৩. নমুনায়ন
১. প্রশ্নমালা কৌশলঃ
যে কোন সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের জন্য বিজ্ঞান সম্মত ও বহুল ব্যবহৃত কৌশল হচ্ছে প্রশ্নমালা। এটা গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহের একটি মৌলিক প্রক্রিয়া। প্রশ্নমালা একটি লিখিত দলিল। এখানে কতকগৃলো প্রশ্ন থাকে এবং প্রশ্নমালা ব্যক্তির নিকট হতে তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়।
২. সাক্ষাতকার কৌশলঃ
সাধারন অর্থে দুই বা ততোধিক লোকের মধ্যে যে কোন আলোচনা বা কথোপকথনাকে সাক্ষাৎকার বলা হয়। এই সাক্ষাৎকার আবার দুই প্রকার যথা ঃ
১. অবকাঠামোগত সাক্ষাৎকার
২. কাঠামোগত সাক্ষাৎকার
৩. নমুনায়নঃ
যে পদ্ধতি বিস্তৃত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে থেকে গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক বিষয় বা উপাদান নির্বাচন করা হয় তাকে সংক্ষেপে নমুনায়ন বলে। আমি আমার গবেষণার জন্য দ্বৈবচয়িত নমুনায়নের পদ্ধতি বেছে নিয়েছি।
২.৪ গবেষণায় ব্যবহৃত মূল পদ্ধতিঃ
এই গবেষণায় রাজনৈতির অস্থিতিশীলতার আর্থ সামাজিক প্রভাব জানার জন্য সামাজিক জরিপ ও কেস স্টাডি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
২.৫ গবেষণা এলাকাঃ
পাঠকদের বোঝার জন্য টার্ম পেপারটির কিছু অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ টার্ম পেপারটির জন্য যোগাযোগ করুন।
পাভেল-০১৭৫৮-৩৩৬৭৫৫
২.৬ তথ্যের উৎসঃ
এই গবেষণায় প্রধানত প্রাথমিক উৎসের উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক কাজের জন্য মাধ্যমিক তথ্যের উৎস ব্যবহার করা হয়েছে।
২.৭ সমগ্রক ও বিশ্লেষনের এককঃ
গবেষণা এলাকায় রাজনৈতিক কর্মীরা হবেন হবে সমগ্রক ও এবং প্রতিজন কর্মীকে বিশ্লেষণ একক হিসাবে ধরা হয়।
২.৮ সময়সূচীঃ
বর্তমান গবেষণা বিষয় নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রনয়ন, প্রশ্নপত্র তৈরী, তথ্য সংগ্রহ, সারনী বদ্ধকরণ ও প্রতিবেদন প্রনয়ন করতে প্রায় ৩ মাস সময় লেগেছে।
২.৯ গবেষণার যৌক্তিকতাঃ
আমার গবেষণার বিষয়টির সাথে জরিপ পদ্ধতি সম্পর্ক সূত্রে আবদ্ধ। কেননা কোন সমাজের নির্দিষ্ট বিষয়ে বাস্তব তথ্য জানার জন্য অন্য পদ্ধতির তুলনায় জরিপ পদ্ধতি অধিক উপযোগী কারণ জরিপ পদ্ধতিতে গবেষক ঐ সমাজের একজন সদস্য হিসাবে সরোজমিনে পর্যবেক্ষন কৌশলের মাধ্যমে সঠিক ও বাস্তবধর্মী তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। যা এই সমাজের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে সক্ষম হয়। এতে আমার সময় ও পরিশ্রমের অপচয় কম হয়েছে এবং আমি আমার গবেষণাটি স্বল্প ব্যায়ে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।
২.১০ গবেষণার সীমাবদ্ধতাঃ
পাঠকদের বোঝার জন্য টার্ম পেপারটির কিছু অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ টার্ম পেপারটির জন্য যোগাযোগ করুন।
পাভেল-০১৭৫৮-৩৩৬৭৫৫
তৃতীয় অধ্যায়
৩.১ বাংলাদেশর ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংষ্কৃতিঃ
৩.২ গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবঃ
৩.২ গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবঃ
পাঠকদের বোঝার জন্য টার্ম পেপারটির কিছু অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ টার্ম পেপারটির জন্য যোগাযোগ করুন।
পাভেল-০১৭৫৮-৩৩৬৭৫৫
চতুর্থ অধ্যায়
৪.১ সংগৃহীত তথ্য সারনী আকারে উপস্থাপন ও বিশ্লেষণঃ
সারনী নং-০১
সারনী নং-০২
সারনী নং-০৩
সারনী নং-০১
সারনী নং-০২
সারনী নং-০৩
পঞ্চম অধ্যায়
৫.১ গবেষণার ফলাফলঃ
১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দলীয় শাসনের অভিজ্ঞতা এবং ২০০৭-এর ১১ জানুয়ারীর পট পরিবর্তনের পর এই প্রশ্ন নূতন করে যে কোন সচেতন মানুষের মনে আসা উচিত। এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের কঠিন কাজটা বাদ দিয়ে যারা দ্রুত একটা নির্বাচনের জন্য ব্যগ্র, এবং ভাবছেন বা বলছেন যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই দেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করবে তারা যে অভিজ্ঞতা থেকে কোন শিক্ষা নিতে চান না সে কথা নিঃসংশয়ে বলা যায়। তাদের কাছে নির্বাচন আর গণতন্ত্র সমার্থক।
বস্তুত নির্বাচনমূলক শাসন ব্যবস্থাকেই যারা গণতন্ত্র হিসাবে চালাতে চান তারা গণতন্ত্রের মর্মবস্তু বা সারসত্তা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখারই প্রয়োজন মনে করেন না। তাদের মত মানলে কি ইংল্যান্ড বা গ্রেট ব্রিটেনকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যাবে? কারণ ইংল্যান্ডের রাষ্ট্র প্রধান অনির্বাচিত বংশগত রাজা বা রাণী। রাষ্ট্রের পরিচয়ে ইংল্যান্ড বা গ্রেট ব্রিটেন আদৌ প্রজাতন্ত্র নয়, বরং রাজতন্ত্র। এই জন্য তাকে বলা হয় ইউনাইটেড কিংডম বা যুক্তরাজ্য। কিন্তু রাষ্ট্র শাসনের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে বংশগত রাজতন্ত্র থাকলেও ব্রিটেনকে কেউ স্বৈরতন্ত্র বা রাজতন্ত্র শাসিত রাষ্ট্র না বলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই বলে। অথচ সেখানে নির্বাচিত সরকার বা জন-প্রতিনিধিরা রাজা বা রাণীর নামেই দেশ শাসন করে। সরকার পরিচালনায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন যথেষ্ট নয়, সেই সঙ্গে অপরিহার্য রাজা বা রাণীর সম্মতি বা অনুমোদন। উপরন্তু সংসদ বা পার্লামেন্টের দুইটি কক্ষের একটি হাউজ অব্ কমন্স নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হলেও, উচ্চতর কক্ষ হিসাবে পরিগণিত অপর কক্ষ হাউজ অব লর্ডস মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে সামন্ত প্রভুদের বংশধরদের নিয়ে গঠিত।
তাহলে কী দাঁড়াল? যে ইংল্যান্ডের গণতন্ত্রকে এ দেশে আদর্শ হিসাবে অনুসরণের চেষ্টা করা হয় সেই ইংল্যান্ড থেকে যদি শিক্ষণীয় কিছু থাকে তবে বলতে হবে যে, নির্বাচনই গণতন্ত্রের সবকিছু নয়। নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের একটি অঙ্গ। তাই নির্বাচন বা ভোট দিলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। এ ক্ষেত্রে উপমা হিসাবে নির্বাচনকে মানুষের দেহাবরণ বা পোশাকের সঙ্গে তুলনা করা যায়। একটা শিম্পাঞ্জিকে জামা, প্যান্ট, কোট, টাই, জুতা পরালে যেমন তা মানুষ হয়ে যায় না তেমন একটা নির্বাচনমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেই একটা সমাজ বা রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয় না।
সমাজ মানসে বা সমাজে পশ্চাৎপদ, প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির অপ্রতিহত চাষাবাদ এবং রাষ্ট্রে আমলাতান্ত্রিক শাসন বজায় রেখে পাঁচ বৎসর মেয়াদে নির্বাচন দিলে গণতন্ত্রের নামে যে বস্তুটা প্রতিষ্ঠিত হয় তার নমুনা সামরিক শাসন বহির্ভূত কালে আমরা কম দেখলাম না। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তানী শাসন কালের কথা বাদ দেওয়া যাক। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আওয়ামী লীগের প্রথম শাসন কালের প্রায় সাড়ে তিন বৎসর এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নির্বাচনমূলক দলীয় শাসনের প্রায় পনেরো বৎসর গণতন্ত্রের যে চেহারা আমরা দেখেছি তারপর ঐ শব্দের প্রতি মোহ থাকার কোন কারণ থাকত না, যদি না ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া তথা পাশ্চাত্যের উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দৃষ্টান্ত আমাদের চোখের সামনে থাকত।
নির্বাচনমূলক শাসনের যে রূপ আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখেছি তাকে গণতন্ত্র না বলে নির্বাচনমূলক স্বৈরতন্ত্র বলাটাই যুক্তিযুক্ত, কিংবা এটাকে যদি গণতন্ত্র বলতেই হয় তবে তার পূর্বে একটা পঙ্গু বা সীমাবদ্ধ শব্দ যোগ করা উচিত। অর্থাৎ এটা পঙ্গু গণতন্ত্র মাত্র। নিকৃষ্ট মানের স্বৈরতা ও ইতরতা দ্বারা অধিকৃত এই পঙ্গু গণতন্ত্র প্রকৃতপক্ষে একটা ইতরতন্ত্র রূপে আমাদের দেশে আবির্ভূত হয়েছে, যা ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে চরম রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছিল। একটা নির্বাচন নির্ভর ইতর ও দুর্বৃত্ত শ্রেণীর লোকদের যে একনায়কী শাসন আমরা বার বার এ দেশে দেখেছি সেটাকে আর যাই হোক পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রের সঙ্গে মিলানো যায় না।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, প্রশাসনিক আইন, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সমূহকে সচেতন হওয়া একান্ত অপরিহার্য।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দলীয় শাসনের অভিজ্ঞতা এবং ২০০৭-এর ১১ জানুয়ারীর পট পরিবর্তনের পর এই প্রশ্ন নূতন করে যে কোন সচেতন মানুষের মনে আসা উচিত। এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের কঠিন কাজটা বাদ দিয়ে যারা দ্রুত একটা নির্বাচনের জন্য ব্যগ্র, এবং ভাবছেন বা বলছেন যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই দেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করবে তারা যে অভিজ্ঞতা থেকে কোন শিক্ষা নিতে চান না সে কথা নিঃসংশয়ে বলা যায়। তাদের কাছে নির্বাচন আর গণতন্ত্র সমার্থক।
বস্তুত নির্বাচনমূলক শাসন ব্যবস্থাকেই যারা গণতন্ত্র হিসাবে চালাতে চান তারা গণতন্ত্রের মর্মবস্তু বা সারসত্তা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখারই প্রয়োজন মনে করেন না। তাদের মত মানলে কি ইংল্যান্ড বা গ্রেট ব্রিটেনকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যাবে? কারণ ইংল্যান্ডের রাষ্ট্র প্রধান অনির্বাচিত বংশগত রাজা বা রাণী। রাষ্ট্রের পরিচয়ে ইংল্যান্ড বা গ্রেট ব্রিটেন আদৌ প্রজাতন্ত্র নয়, বরং রাজতন্ত্র। এই জন্য তাকে বলা হয় ইউনাইটেড কিংডম বা যুক্তরাজ্য। কিন্তু রাষ্ট্র শাসনের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে বংশগত রাজতন্ত্র থাকলেও ব্রিটেনকে কেউ স্বৈরতন্ত্র বা রাজতন্ত্র শাসিত রাষ্ট্র না বলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই বলে। অথচ সেখানে নির্বাচিত সরকার বা জন-প্রতিনিধিরা রাজা বা রাণীর নামেই দেশ শাসন করে। সরকার পরিচালনায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন যথেষ্ট নয়, সেই সঙ্গে অপরিহার্য রাজা বা রাণীর সম্মতি বা অনুমোদন। উপরন্তু সংসদ বা পার্লামেন্টের দুইটি কক্ষের একটি হাউজ অব্ কমন্স নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হলেও, উচ্চতর কক্ষ হিসাবে পরিগণিত অপর কক্ষ হাউজ অব লর্ডস মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে সামন্ত প্রভুদের বংশধরদের নিয়ে গঠিত।
তাহলে কী দাঁড়াল? যে ইংল্যান্ডের গণতন্ত্রকে এ দেশে আদর্শ হিসাবে অনুসরণের চেষ্টা করা হয় সেই ইংল্যান্ড থেকে যদি শিক্ষণীয় কিছু থাকে তবে বলতে হবে যে, নির্বাচনই গণতন্ত্রের সবকিছু নয়। নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের একটি অঙ্গ। তাই নির্বাচন বা ভোট দিলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। এ ক্ষেত্রে উপমা হিসাবে নির্বাচনকে মানুষের দেহাবরণ বা পোশাকের সঙ্গে তুলনা করা যায়। একটা শিম্পাঞ্জিকে জামা, প্যান্ট, কোট, টাই, জুতা পরালে যেমন তা মানুষ হয়ে যায় না তেমন একটা নির্বাচনমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেই একটা সমাজ বা রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয় না।
সমাজ মানসে বা সমাজে পশ্চাৎপদ, প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির অপ্রতিহত চাষাবাদ এবং রাষ্ট্রে আমলাতান্ত্রিক শাসন বজায় রেখে পাঁচ বৎসর মেয়াদে নির্বাচন দিলে গণতন্ত্রের নামে যে বস্তুটা প্রতিষ্ঠিত হয় তার নমুনা সামরিক শাসন বহির্ভূত কালে আমরা কম দেখলাম না। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তানী শাসন কালের কথা বাদ দেওয়া যাক। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আওয়ামী লীগের প্রথম শাসন কালের প্রায় সাড়ে তিন বৎসর এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নির্বাচনমূলক দলীয় শাসনের প্রায় পনেরো বৎসর গণতন্ত্রের যে চেহারা আমরা দেখেছি তারপর ঐ শব্দের প্রতি মোহ থাকার কোন কারণ থাকত না, যদি না ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া তথা পাশ্চাত্যের উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দৃষ্টান্ত আমাদের চোখের সামনে থাকত।
নির্বাচনমূলক শাসনের যে রূপ আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখেছি তাকে গণতন্ত্র না বলে নির্বাচনমূলক স্বৈরতন্ত্র বলাটাই যুক্তিযুক্ত, কিংবা এটাকে যদি গণতন্ত্র বলতেই হয় তবে তার পূর্বে একটা পঙ্গু বা সীমাবদ্ধ শব্দ যোগ করা উচিত। অর্থাৎ এটা পঙ্গু গণতন্ত্র মাত্র। নিকৃষ্ট মানের স্বৈরতা ও ইতরতা দ্বারা অধিকৃত এই পঙ্গু গণতন্ত্র প্রকৃতপক্ষে একটা ইতরতন্ত্র রূপে আমাদের দেশে আবির্ভূত হয়েছে, যা ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে চরম রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছিল। একটা নির্বাচন নির্ভর ইতর ও দুর্বৃত্ত শ্রেণীর লোকদের যে একনায়কী শাসন আমরা বার বার এ দেশে দেখেছি সেটাকে আর যাই হোক পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রের সঙ্গে মিলানো যায় না।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, প্রশাসনিক আইন, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সমূহকে সচেতন হওয়া একান্ত অপরিহার্য।
৫.২ সুপারিশমালাঃ
৫.৩ উপসংহারঃ
৫.৪ নমুনা প্রশ্নমালঃ
৫.৫ সহায়ক গ্রন্থপঞ্জীঃ
TERM-PAPER CODE : 2505201703

